রাজনীতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে অচলাবস্থার অবসান

দীর্ঘ ২৯ বছর পর অবসান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে অচলাবস্থা।

দীর্ঘ ২৯ বছর পর অবসান হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে অচলাবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে কানাচে, চায়ের আড্ডায় সর্বত্রই সুবাতাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হবে কিনা বা হলে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে কিনা তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের মাঝে শঙ্কা রয়েছে। ডাকসু নির্বাচন হলে তৈরি হবে মেধাবী ও যোগ্য ছাত্র নেতৃত্ব। করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে অনশনকারী আইন বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, প্রথম কথা হলো ডাকসু নির্বাচন হতে হবে। এ নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক রুটিনে নিয়ে আসতে হবে এবং প্রতিবছর যেন নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

যারা ডাকসুতে নির্বাচিত হবে তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করবে। ডাকসু গঠনতন্ত্রের ৮(ই)ধারায় প্রত্যেক হলে একটি করে ভোট কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীরা কেবল নিজ নিজ হলেই ভোট প্রয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। নির্বাচনের খসড়া আচরণ বিধিতে ভোট প্রদান করতে শিক্ষার্থীদের বৈধ হল পরিচয় পত্র দেখানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্রলীগ ও জাসদ ছাত্রলীগের বাইরে ১৫টি সংগঠনের মধ্যে ১৩টি সংগঠনই হলের বাইরে কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছে।এসব সংগঠনের নেতাদের দাবি আবাসিক হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্য থাকায় এবং হলগুলোতে ক্রিয়াশীল অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের অবস্থান না থাকায় হলে ভোট কেন্দ্র দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫ভাগ শিক্ষার্থীই হলের বাইরে থাকে। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের আবাসিক হলে থাকতে দেয়া হয়না। গত ১০ বছরে হলগুলো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু গঠনতন্ত্রের নিয়মানুসারে হলেই কেন্দ্র দেয়ার পক্ষে অনড় ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের বিশ^বিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এ বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে বাইরে ভোটকেন্দ্র দেয়ার বিষয়টি হাস্যকর।

সাদা দলের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ কয়েকবার ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও সহাবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। সহাবস্থান নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে ।

 

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close