জাতীয়

৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়ল মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা

রাত ৯টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ছয় দফা দাবি আগামী সাত দিনের মধ্যে মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

জাতীয় ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়নের দাবিসহ ছয় দফা দাবিতে সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শাহবাগে অবস্হানের মাধ্যমে অবরোধ কর্মসূচি করে তারা। ফলে গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড় এর চার দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে শাহবাগ।

রাত ৯টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ছয় দফা দাবি আগামী সাত দিনের মধ্যে মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

ছয় দফা দাবি:

১.রাজাকারসহ স্বাধীনতা বিরোধী এবং তাদের বংশধরদের সরকারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি,চাকুরিচ্যুত এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষনা করতে হবে।

২.সরকারি সকল চাকরিতে ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল,,সংরক্ষন এবং বিশেষ কমিশন গঠন করে প্রিলিমিনারী থেকে শতভাগ বাস্তবায়ন।স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সংরক্ষিত পদগুলো বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।

৩.জাতির পিতা এবং তার পরিবারসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অবমাননাকারীদের বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৪.বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পারিবারিক সুরক্ষা আইন প্রনয়ন এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৫.সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী সকল অপপ্রচার বন্ধ,কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে স্বঘোষিত রাজাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলাসহ সকল প্রকার অরাজকতা সৃষ্টিকারী স্বাধীনতা বিরোধীদের যথাযথ এবংং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৬.সরকারী চাকরীতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্মদের বয়সসীমা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি করতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করে সরকার।

পরিপত্রে বলা হয়, নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close