আন্তর্জাতিক

সীমান্তে রণসজ্জা ভারতের, ভয়ে অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি শিবির গোটাচ্ছে পাকিস্তান

ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, অপেক্ষা শুধু সবুজ সঙ্কেতের। যে কোনও সময় আকাশপথে হামলা চালানোর জন্য তৈরি তারা। আর দেশবাসীর কাছে সেটাই বিস্ময়ের কারণ হতে পারে। এয়ার চিফ মার্শাল বি এস ধানোয়া জানিয়েছেন, মিশন সফল করতে সর্বদা প্রথম সারিতে রয়েছে বায়ুসেনা। দিন, রাত বা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দ্রুত, শক্তিশালী ও সূচারুভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে আমাদের স্বয়ংক্রিয় বম্বিং প্রযুক্তি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাতাসে যুদ্ধের গন্ধ! পোখরানে ভারতীয় বায়ুসেনার আচমকা পুরোদস্তুর যুদ্ধবিমানের মহড়ার পর রবিবারও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বায়ুসেনার বেস স্টেশনগুলিতে দেখা গেল প্রবল তৎপরতা। আকাশে মহড়া দিয়েছে ফাইটার জেট। সকাল থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। নর্দার্ন, ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কমান্ডের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছে সাউথ ব্লক। বিশেষভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ওয়েস্টার্ন কমান্ডের অধীনে থাকা সেনাবাহিনীকে। সূত্রের খবর, সীমান্তে ইতিমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৪০টি যুদ্ধবিমান। অর্থাৎ ভারত প্রস্তুত। আশঙ্কার মেঘ দেখছে পাকিস্তানও। তাই ভারতের হামলার আশঙ্কায় সীমান্তের লঞ্চপ্যাডগুলি থেকে জঙ্গি ঘাঁটি সরাতে শুরু করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

পুলওয়ামায় জয়েশ-ই-মহম্মদের নাশকতার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বদলা নিতে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঘটনার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বৈঠক করেছিলেন প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে। পরদিন সকালে তড়িঘড়ি মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির (সিসিএস) বৈঠক ডাকেন মোদি। সেখানে পুলওয়ামা পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে রিপোর্ট করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। উপস্থিতি ছিলেন নির্মলা সীতারামন, রাজনাথ সিং ও অরুণ জেটলি। ডেকে পাঠানো হয়েছিল সেনাপ্রধানকেও। সেখানেই পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর উপর থেকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ তুলে নিয়ে যোগ্য জবাবের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, উপযুক্ত সময়ে জবাব দেবে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি, পাকিস্তানকে কূটনৈতিকস্তরে একঘরে করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। সেইমতো এদিন সকাল থেকে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। দফায় দফায় দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও রাত পর্যন্ত কোনও ফরওয়ার্ড মুভমেন্টের আভাস পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, কাশ্মীর সীমান্তে কিন্তু বিএসএফের পাশাপাশি আরও বেশি বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়ে গিয়েছে।

পরিস্থিতি যেদিকে এগচ্ছে তাতে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, পাক ভূখণ্ডে বিমান হানা চালাতে পারে ভারত। দিল্লির এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। সূত্রের খবর, যার জেরে সীমান্তে ইতিমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১৪০টি যুদ্ধবিমান। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিককে বিমান হানার সময় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তান খুব সতর্ক রয়েছে। কাজেই এখনই আমাদের তরফে কোনওরকম পদক্ষেপের চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। তাই সময় বুঝে সেনাবাহিনীকে পা ফেলতে হবে।

ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, অপেক্ষা শুধু সবুজ সঙ্কেতের। যে কোনও সময় আকাশপথে হামলা চালানোর জন্য তৈরি তারা। আর দেশবাসীর কাছে সেটাই বিস্ময়ের কারণ হতে পারে। এয়ার চিফ মার্শাল বি এস ধানোয়া জানিয়েছেন, মিশন সফল করতে সর্বদা প্রথম সারিতে রয়েছে বায়ুসেনা। দিন, রাত বা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দ্রুত, শক্তিশালী ও সূচারুভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে আমাদের স্বয়ংক্রিয় বম্বিং প্রযুক্তি।

আর ভারতের এই সমরসজ্জা বুঝতে পেরে সীমান্তের লঞ্চপ্যাডগুলি থেকে জঙ্গি ঘাঁটি সরাতে শুরু করেছে পাকিস্তান। তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেনা ক্যাম্পে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, জওয়ানদের মৃত্যু বিফলে যাবে না। যারা ষড়যন্ত্র করছে, ভারত তাদের শাস্তি দেবেই। অন্যদিকে, সিআরপিএফও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এর বদলা তারা নেবেই। ২০১৬ সালে উরির সেনাছাউনিতে জঙ্গি হানার পর সার্জিকাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারত। পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে সীমান্ত লাগোয়া জঙ্গিদের একের পর এক লঞ্চপ্যাড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল দেশের সেনাবাহিনী। মৃত্যু হয়েছিল বহু জঙ্গির। সেবারের মতো আরও একটি সার্জিকাল স্ট্রাইক বা একধাপ এগিয়ে বিমানহানা চালাতে পারে ভারত, এই ভয়েই কি পাকিস্তানের এই তৎপরতা? শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

পুলওয়ামার জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিতে প্রত্যাঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারত। সেইমতো প্রতিবেশী দেশের উপর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ‘সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের মর্যাদা’। সেই ধারা বজায় রেখে শনিবার রাতেই পাক পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করে দেয় নয়াদিল্লি। আর এদিন জম্মু ও কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষী তুলে নিয়েছে প্রশাসন। সন্ত্রাস দমন ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের ৪৯টি দেশ। একধাপ এগিয়ে ভারতের যাবতীয় পদক্ষেপে আমেরিকা পাশে দাঁড়াবে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সেদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা। ইজরায়েল, জার্মানি, কানাডা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সও ভারতের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছে, তারা পাশেই রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বর্তমান

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close