খেলাধুলাফুটবল

মেসির হ্যাটট্রিকে সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনার কষ্টার্জিত জয়

স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে দুইবার পিছিয়ে পড়েও লা লিগায় পঞ্চম স্থানে থাকা সেভিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের দারুন এক জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। শনিবার এ্যাওয়ে ম্যাচটিতে জয়ের মাধ্যমে শিরোপা ধরে রাখার পথে নিজেদের আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল কাতালান জায়ান্টরা।
অথচ ম্যাচের শুরুতে মেসির ফিটনেস নিয়ে শঙ্কা ছিল। এমনকি বেশ কিছুদিন যাবত ফর্মহীনতায় থাকায় আত্মবিশ্বাসেও বেশ ঘাটতি দেখা গিয়েছিল এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের। কিন্তু রামোন সানচেজ পিজুয়ানে যেভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন তাতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পরবর্তী দুই ম্যাচের আগে আবারো নিজের জাত চেনালেন মেসি। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি কোপা ডে রে’র সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ ছাড়াও তিনদিন পরেই লা লিগায় এল ক্ল্যাসিকোতে মুখোমুখি হবে দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল ও বার্সা। কোপা ডেল রে’র সেমিফাইনালের প্রথম লেগের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
৯ ম্যাচে ১১ গোল করা মেসি কিছুদিন যাবতই থাইয়ের পেশীর সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু কালকের ম্যাচে মোটেই মনে হয়নি তার ফিটনেসের অভাব রয়েছে। এটি ছিল বার্সেলোনার হয়ে তার ৪৪তম হ্যাটট্রিক। ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর সাথে কোন স্প্যানিশ ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক হ্যাটট্রিকের রেকর্ড গড়লেন মেসি। ম্যাচ শেষে এই আর্জেন্টাইন তারকা বলেছেন, ‘আমরা সবসময়ই নিজেদের সেরাটা দিতে পারবো না, এটাই নিয়ম। কিছুদিন ধরে সত্যিকার অর্থেই আমরা ভাল ফুটবল খেলছি না। কিন্তু শুরু থেকেই নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস থাকলে গোল করাটা অনেক সময় সহজ হয়ে যায়।’
ম্যাচ শেষের ইনজুরি টাইমে দলের হয়ে বাকি গোলটি করেছেন লুইস সুয়ারেজ। সপ্তাহের মাঝামাঝিতে লিঁও’র বিপক্ষে হতাশাজনক পারফরমেন্সের পর সুয়ারেজের জন্য এই গোলটি জরুরী ছিল। এই গোলেও এসিস্ট ছিল মেসির। এর আগে প্রথমার্ধে জেসুস নাভাস ও গ্যাব্রিয়েল মারকাডোর গোলে দুইবার এগিয়ে গিয়েছিল সেভিয়া। কিন্তু মেসির কল্যাণে সেই লিড বেশীক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
এই পরাজয়ে শীর্ষ চারে থেকে মৌসুম শেষ করার সেভিয়ার স্বপ্ন দিনে দিনেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে দুটি ম্যাচে মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সেলোনাকে যে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ কারনেই মেসি বলেছেন, আজকের এই জয় আমাদের শিরোপা নিশ্চিত করে দেয়নি। কিন্তু এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিল। ম্যাচের শেষের দিকে পুরো বিষয়টা বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। আজ আমরা আবারো নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছি।
মেসির ফর্মে ফেরা যেমন বার্সার জন্য দারুণ এক প্রাপ্তি তেমনি কাল হাঁটুর ইনজুরি কাটিয়ে তিন মাস পার ডিফেন্ডার স্যামুয়েল উমতিতির দলে ফেরাও ছিল বার্সেলোনার জন্য দারুন এক সুখবর। ম্যাচের শুরুতেই সেভিয়ার স্ট্রাইকার উইসাম বেন ইয়েডারের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল উমতিতিকে। তবে তার দক্ষতায় সে যাত্রা রক্ষা পায় বার্সেলোনা। শুরু থেকেই বেশ আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলতে থাকে সেভিয়া। ২২ মিনিটে কাউন্টার এ্যাটাক থেকে নাভাস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। মেসির ভুলে বেন ইয়েডারের ডান দিকের ক্রস থেকে নাভাস গোলের সুযোগটি কাজে লাগান। তবে দ্রুতই মেসি তার ভুলের ক্ষতিপূরণ বেশ ভালভাবেই দিয়েছেন। ইভান রাকিটিচের ক্রস থেকে সেভিয়া গোলরক্ষ টমাস ভাক্লিককে পরাস্ত করতে ভুল করেননি মেসি। বিরতির ঠিক আগে পাবলো সারাবিয়ার এসিস্টে মারকাডো আবারো সেভিয়াকে এগিয়ে দেন।
বিরতির পর আরটুরো ভিডালের পরিবর্তে মাঠে নামেন ওসমানে ডেম্বেলে। মাঠে নেমেই সুয়ারেজের ক্রস থেকে দলের পক্ষে সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হন ডেম্বেলে। ৬৭ মিনিটে ডেম্বেলের ব্যাক পাসে মেসি কার্লিং শটে দলকে সমতায় ফেরান। ৮৫ মিনিটে ভাক্লিককে ফাঁকি দিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মেসি। তিন গোল করার পরেও সুয়ারেজের শেষ গোলে এসিস্ট করেছেন মেসিই। বলতে গেলে কালকের ম্যাচটির প্রায় পুরোটা জুড়েই ছিল মেসির অনবদ্য ফুটবল কারিশমা।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close